বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
Title :
শত্রুর চক্রান্ত ব্যর্থ করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান মোজতবা খামেনির রংপুরে থানায় আটকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ‘পিটুনি’, ওসিসহ ৫ পুলিশ প্রত্যাহার তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই: মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফানের সাক্ষাৎ বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের লাশকেও ভয় পায়: হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য: এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ জেল থেকে বের হয়ে ফের আটক আ. লীগ নেতা, বাবাকে জড়িয়ে কাঁদলেন মেয়ে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

বিচারকের ছেলে হত্যাকারী কে এই লিমন?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৪ Time View
84

রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার লিমন মিয়া (৩৫) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনের পাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য এইচএম ছোলায়মান হোসেন শহীদের ছেলে তিনি। শহীদ মিয়া ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, লিমন ‘জিয়া সাইবার সোর্স’-এর জেলা কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ মিয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে লিমন দ্বিতীয়। গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রায় সাত-আট বছর চাকরির পর ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী ছাড়েন। এরপর ফুলছড়ির গজারিয়া হাট ও বালাসী ঘাট এলাকায় শেয়ার ও বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, লিমন দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য এক মাস আগে ঢাকায় যান। তবে ঢাকায় যাওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। রাজশাহীতে কেন গিয়েছিলেন কিংবা বিচারকের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক—এসব বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানেন না।

লিমনের বাবা শহীদ মিয়া বলেন, ‘চাকরি ছাড়ার পর থেকেই ছেলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এলাকায় ব্যবসা করত, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না। এক মাস আগে চোখ দেখানোর কথা বলে ঢাকায় যায়, তারপর আর খোঁজ পাইনি। যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, আইন অনুযায়ী বিচার হোক।’

বিচারকের পারিবারিক সূত্রের তথ্য, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের বাবার বাড়ি গাইবান্ধা শহরের এটেস্ট্রেটপাড়ায়। একই জেলার হওয়ায় তাসমিন নাহার ও লিমনের পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে। লিমন প্রায়ই তার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। সহযোগিতা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকবার হুমকিও দিয়েছেন। সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সকালে তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে তিনি পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে লিমন দাবি করেন, বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের ‘সম্পর্ক’ ছিল এবং তারা ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচিত হন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে লিমন তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এ সময় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার (৪৪) গুরুতর আহত হন। পুলিশ দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, হামলাকারীর পকেটে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তার পরিচয় পাওয়া যায়। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তদন্ত চলছে।

এর আগে ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য লিমন মিয়া বারবার আর্থিক সাহায্য না পেয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। পরে তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com