জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের চিরুনি অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত নারীসহ আরও ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। গতকাল ও আজ (৪ ও ৫ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিনব কায়দায় সুপারি ও বাসের লাগেজে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় ৩ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুপারির ডাটার ভেতরে ইয়াবা!
আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভোর পৌনে ৪টার দিকে জোরারগঞ্জ থানার এসআই মোঃ হান্নান আল মামুনের নেতৃত্বে একটি টিম বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় ট্রাফিক বক্সের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার মোঃ আয়াস (২৪) নামের এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে দেখা যায়, অভিনব কায়দায় ৭টি সুপারির ছরার ডাটার ভেতরে আঠা ও পলিথিন দিয়ে বায়ুরোধক অবস্থায় লুকিয়ে রাখা ১৩১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করছিলেন তিনি।
লাগেজে ২০০০ ইয়াবাসহ যাত্রীবেশী স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার
এদিকে সকাল পৌনে ৯টার দিকে একই পুলিশ কর্মকর্তা বারইয়ারহাট এলাকায় ঢাকাগামী ‘রয়েল কোচ সার্ভিস’ এর একটি যাত্রীবাহী বাসে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় যাত্রীবেশে ঢাকা যাওয়ার পথে পাবনার আমিনপুর থানার সাধুপাড়া এলাকার স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মোঃ জাফর ইকবাল (২৯) ও তার স্ত্রী মোছাম্মত জুথী (২১)। তাদের সাথে থাকা পারিবারিক কাপড়ের কালো লাগেজের ভেতরে বিশেষ কায়দায় স্ক্রু দিয়ে আটকানো দুটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ওয়ারেন্টভুক্ত ও অন্যান্য ধারায় গ্রেফতার ৪
মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও পুলিশের পৃথক অভিযানে আরও ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিআর মামলায় (ধারা-৩২৩/৫০৬-১ পেনাল কোড) ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামি মোছাম্মৎ শিরিনা বেগম ও তার স্বামী মোঃ ইয়াছিনকে জোরারগঞ্জের দক্ষিণ মরগাং এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন এসআই মামুন হাসান ও এএসআই আব্দুল ওয়াদুদ।
জোরারগঞ্জ থানার একটি চুরি মামলার (৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড) সন্দিগ্ধ আসামি সন্দ্বীপের মুসাপুরের মোঃ আলাউদ্দিনকে (৪০) বিএসআরএম গেটের সামনে থেকে গ্রেফতার করেন পিএসআই কামরুল হাসান।
এছাড়া, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মোতাবেক ধুম এলাকা থেকে শাহেদুজ্জামান শাহেদ (৪০) নামের আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেন এসআই মোঃ সাদ্দাম হোসেন।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, চট্টগ্রাম জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।