বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

জাটকা নিধন বন্ধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ Time View
8

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাটকা নিধন বন্ধে জেলেদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বসুন্ধরা শুভসংঘ পাথরঘাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বরগুনার পাথরঘাটা নতুন বাজার লঞ্চঘাট এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসি ঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় জেলেদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে জাটকা নিধনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং বিকল্প সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের পাথরঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ পাথরঘাটা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এসমে, বসুন্ধরা শুভসংঘ পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক-গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, সমাজকর্মী সোহাগ আকন, জাকারিয়া প্রমুখ।

ক্যাম্পেইনে বক্তারা বলেন, জাটকা (ইলিশের পোনা) নির্বিচারে নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। তারা জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্ধারিত সময়—বিশেষ করে মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত—জাটকা আহরণ বন্ধ রাখতে পারলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত জেলেদেরই আর্থিকভাবে লাভবান করবে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সরকার জাটকা সংরক্ষণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও অনেক জেলে জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে বাধ্য হন। এ সময় জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও পর্যাপ্ত প্রণোদনার ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে জেলেদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়, যেখানে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব, আইনি বিধিনিষেধ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণে নদী রক্ষা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে গেলে জেলেদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জাটকা নিধন অনেকাংশে কমে আসবে। ইতোমধ্যে অনেক জেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাটকা না ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সচেতনতা, আইন প্রয়োগ এবং জেলেদের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা—এই তিনটির সমন্বয় ঘটাতে পারলেই দেশের ইলিশ সম্পদ টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মত দেন বক্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com