ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাপ্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সৈন্য মোতায়েন রাখার ফলে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মার্কিন বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং প্রস্তুতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক গোপন মূল্যায়নে সামরিক নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান সামরিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘায়িত করা টেকসই নয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। যুদ্ধজাহাজের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েনের কারণে ডেস্ট্রয়ার বহরের একটি বড় অংশ এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নৌবাহিনী প্রধানসহ অন্যান্য কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরান যুদ্ধের জন্য যে পরিমাণ সম্পদ ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাতে এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা নথিতে উঠে এসেছে যে, চলমান সংঘাতের কারণে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। এছাড়া ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র ঘাটতির বিষয়টি অস্বীকার করছে, তবুও সামরিক কমান্ডারদের একাংশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং যুদ্ধের অনিয়ন্ত্রিত স্থায়িত্ব তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক মিশনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।