আজ সোমবার বিকাল ৩:৪৭, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

রংপুরে ৩০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার চলাচল

নিউজ ডেস্ক | জাগো বার্তা .কম
আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : দেশজুড়ে,রংপুর
পোস্টটি শেয়ার করুন

ব্যস্ততম সড়কগুলো যানজটমুক্ত করতে ফোর লেনে রূপান্তরের পরও নগরবাসীর কপালে সুবিধা মিলছে না। বরং অপরিকল্পিত নগরায়ন আর অবৈধ অটোরিকশা এবং ফুটপাতে হকারদের দখলদারিত্ব বেড়েছে। সিটি থেকে ৪ হাজার ৮’শ বৈধ লাইসেন্স দেয়া হলেও নগরীতে চলাচল করছে প্রায় ৪০ হাজারের মতো অটোরিকশা।

এ কারণে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে বাড়ছে নগরবাসীর ভোগান্তি অন্যদিকে অদক্ষ, অযোগ্য চালকের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশন এবং পুলিশের প্রশাসেনর মধ্যে।

নগরবাসীর অভিযোগ, ব্যস্ততম মডার্ণ মোড়, পার্কের মোড়, কলেজ রোড় লালবাগ, শাপলা চত্ত্বর, গ্রান্ড হোটেল মোড়, জাহাজ কোম্পানী মোড়, সুপার মার্কেট ট্রাফিক মোড়, সিটি বাজার মোড়, কাচারী বাজার জিরো পয়েন্ট, মেডিকেল মোড়, সাতমাথা মোড়, মাহিগঞ্জ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রোডে প্রতিদিনই কোন না কোন সময় ভয়াবহ যানজটের গ্যারাকলে পড়তে হয়।

শুধু তাই নয়, ট্রাফিক পুলিশের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ত্রিশ হাজারেরও বেশি অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম আর দখলদারদের কবলে চলাচলের রাস্তাটুকু চলে যাওয়ায় এই ভোগান্তি সহসাই পিছু ছাড়ছে না।

নগরীর প্রধান সড়কগুলোর দু’ধারের ৫৮ ফুট ফোরলেন সড়কের প্রায় পুরোটাই অটোরিকশা আর হকারদের দখলে। একারণে ভয়াবহ যানজট এখন যেন এই নগরীর নিত্য সঙ্গী। অথচ কয়েক বছর আগেও এমন অটোরিকশার যানজট চোখে পড়তো না।

শাপলা চত্ত্বর এলাকার ব্যবসায়ী অমজাদ হোসেন, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, তছলিম মিয়া বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দায়িত্বহীনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি। অবৈধ অটোরিকশার জন্য তারা ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারছে না।’

এসময় অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম কমাতে একই রঙের অটো চলাচল এবং বাহির থেকে আসা অটোরিকশা নগরীর নির্দিষ্ট পয়েন্টে গ্যারেজে রাখার ব্যবস্থা করার জন্য পরামর্শ দেন তারা।

পায়রা চত্ত্বর এলাকার হাসনাইন আহম্মেদ নয়ন, তারিকুল ইসলাম, মানিক মিয়া, আব্দুল মজিদ ছট্টু, জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘নগরীর অধিকাংশ অটোচালকই অদক্ষ, অযোগ্য এবং অপরিণত বয়সের। তাদের কারণেই যানজট আর প্রতিনিয়তই দুর্ঘটন ঘটছে।

তারা অটোরিকশার দৌরাত্ম বন্ধে সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার জন্য মেয়রকেও দায়ী করেন।

এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুরে অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে কিন্তু আমদানি এখনও চালু আছে।’

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, ‘এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সহায়তা করলেই অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এসময় রসিক থেকে ৪ হাজার ৮’শ এর একটা কম বা বেশি অটোরিকশার লাইসেন্স দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।’

‘সিটি করপোরেশনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম মো. ফারুক বলেন, আমরা সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করলে সমস্যাকে শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব।’