আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২:৩৩, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

কখন চাকরি পরিবর্তন প্রয়োজন?

নিউজ ডেস্ক | জাগো বার্তা .কম
আপডেট : নভেম্বর ৯, ২০১৮ , ৫:২৫ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : লাইফস্টাইল
পোস্টটি শেয়ার করুন

জকাল চাকরিতে বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন আকন্দ সাহেব। দীর্ঘ প্রায় একযুগের চাকরিজীবনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন তিনি। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতে এমন কিছু সমস্যা হচ্ছে যা খুব উল্লেখ করার মতো না। তিনি কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সমস্যাগুলো শেয়ার করলেন, তারা পরামর্শ দিলেন চাকরিটি পরিবর্তনের। শুধু বস বা সহকর্মীর সঙ্গে মনোমালিন্য বা কাজ ভালো না হলেই চাকরি পরিবর্তন নয়, এমন কিছু বিষয় আছে যার পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি বদলে ফেলতে হয় বলে পরামর্শ দিলেন সেই বন্ধুরা। জেনে নেবো কি হতে পারে সেই কারণগুলো-

১. কাজ করতে গিয়ে যখন বুঝবেন যে আপনি আর কোনোভাবেই আপনার কাজকে উপভোগ করতে পারছেন না, তখন বুঝবেন যে আপনি আসলেই এই চাকরিটা আর চাচ্ছেন না। তাই যদি দেখেন কাজের বেশির ভাগ সময় বোরিং, ডিপ্রেসড বা বিরক্ত মনে হয় তাহলে সেটি কোনোভাবেই ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে না। তাহলে চাকরিটি পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।

২. জীবনে টাকা প্রয়োজন, তবে টাকাই সবকিছু না। পোস্ট, কাজের পরিমাণ বিবেচনায় আপনার স্যালারি নির্ধারিত হয়। কাজ ও পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিদান পাওয়ার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু সেটা যদি তুলনামূলক কম হয় মানে নিজেকে আন্ডারপেইড মনে হয় তাহলে অবশ্যই কাজ করার স্পৃহা কমে যাবে। সেক্ষেত্রে উর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলাপ করুন। কোনো সমাধান না পেলে অন্য কোনো সুযোগ খুঁজুন। সময়মতো আপনার স্যালারি দিতে না চাইলেও সেখানে না থাকাটা শ্রেয়।

৩. নিজের সব মেধা, শ্রম ও চেষ্টা দিয়ে ভালো কাজ করে যাওয়ার পরও যদি তার স্বীকৃতি না পান তা খুবই দুঃখজনক। ভালো কাজের প্রশংসা না পেলে আপনি হয়ত ভাববেন আপনি কি আদৌ আপনার কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেন? এটি শুধু আপনার অনুপ্রেরণাই নষ্ট করবে না, আপনাকে চিন্তিত করে তুলবে যে আপনার ভবিষ্যতে হয়ত কোনো প্রোমোশনের সম্ভাবনা নেই। তখন চাকরিটি নিয়ে ভাবুন।

৪. আপনি যদি দেখেন আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতি খুব ধীর গতিতে এগোচ্ছে বা একেবারেই থেমে গেছে, তবে আপনার কর্মক্ষেত্র নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করুন। যদি আপনার বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ বা নতুন সুযোগ না থাকে, তবে অন্য অপশনের কথা ভাবুন যা আপনার নিজের আর ক্যারিয়ার গ্রোথ উভয়কে সাহায্য করবে।

৫. চাকরি মানেই তো একটা রুটিন জীবন। তাই সকালের আরামের ঘুমটা ছেড়েই আপনাকে অফিসের জন্য বের হতে হয়। এটা অবশ্যই কঠিন একটা কাজ। তারপরও জীবিকা বলে কথা। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার প্রতি অনিহা কাজ করে তাহলে ধরে নিতে হবে কোনো কারণে আপনার নিজের চাকরিতে যেতে আর ভাল লাগছে না। অফিস যাওয়ার কথা ভাবলেই যদি আপনার ক্লান্ত বোধ হয়, কোন কাজেই উদ্দীপনা খুঁজে পান না, ছুটি শেষ হলেই হতাশা আপনাকে ঘিরে ধরে তাহলে বুঝবেন আপনার চাকরি পরিবর্তনের সময় এসেছে।

৬. চাকরিতে সফলতা আমাদের ভবিষ্যতের চলার পথকে আরও নিশ্চিত আর আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন যে আপনার সফলতার কোনো চিহ্ন নেই তাহলে আবার ভাবুন। আবার সফল ব্যক্তিদের সম্পর্কে লেখা পড়ে বা অন্যের সফলতা দেখে আপনি বিষণ্ন হয়ে গেলে বুঝবেন আপনার চাকরিতে আপনি সন্তুষ্ট নন।