আজ সোমবার বিকাল ৪:২৬, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

খুলবে পাসওয়ার্ডে! ধর্ষণ রুখতে স্মার্ট প্যান্টি তৈরি করল ছাত্রী

নিউজ ডেস্ক | জাগো বার্তা .কম
আপডেট : মার্চ ৫, ২০১৮ , ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : তথ্য প্রযুক্তি,সিলেট
পোস্টটি শেয়ার করুন

সাত বছরের শিশুর সঙ্গে দুষ্কর্মের ঘটনা মন ভেঙে দিয়েছিল ১৯বছরের সিনু কুমারীর৷ তখন থেকে সে এমন কিছু করতে চেয়েছিল যা নারীদের সুরক্ষার জন্য হবে৷ আর সেই ভাবনা থেকেই বিএসএসির ছাত্রী সিনু তৈরি করে ফেললেন এমন এক প্যান্টি যা আটকাবে ধর্ষণ৷

কারণ উন্নত ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্যান্টিতে রয়েছে স্মার্টলক যা খুলবে শুধুমাত্র সঠিক পাসওয়ার্ড দিলেই৷ পাশাপাশি লোকেশনও জিপিআরএস-এর মাধ্যমে জানতে পারা যাবে, এতোটাই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে এই প্যান্টিতে৷

উত্তরপ্রদেশের ফাররুখাবাদ জেলার এক অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের মেয়ে সিনু জানিয়েছেন, প্রতিদিনের এই ধর্ষণের ঘটনা-খবর সে হতাশ হয়ে যেত৷ একদিন সাত বছরের এক শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা শুনে সে আর স্থির থাকতে পারেনি৷ সে সময়ই কিছু একটা করার প্রতিজ্ঞা তিনি নিয়েছিলেন মনে মনে৷ যেমন ভাবনা তেমন কাজ৷ সিনু তৈরি করে ফেললেন এই ধর্ষণ প্রতিরোধক প্যান্টি৷

প্রায় একমাসের পরিশ্রমের পর এটি তৈরি করতে সফল হয় সে৷ তবে এই প্যান্টিকে আরও অনেক উন্নত করা সম্ভব, তবে বিভিন্ন সংস্থার সাহায্যেই তা বাস্তবায়িত হতে পারে৷

ব্লেডপ্রুফ কাপড় দিয়ে তৈরি এই প্যান্টিকে কাঁচি বা ব্লেড দিয়ে কাটা যাবে না, এমনকি আগুনও ধরানো যাবে না এতে৷ প্রায় ৫,০০০টাকা ব্যয় হয়েছে এটি তৈরি করতে৷ তাই সাধারণ প্যান্টির তুলনায় এর মূল্যও যে বেশি হবে তা স্বীকারও করেছেন সিনু৷ তবে সরকার যদি সাহায্যের হাত এগিয়ে দেয় তাহলে গরীব মহিলাদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এই সুরক্ষাকবচ৷

সিনুর এই প্রচেষ্টায় সাড়া পড়ে গিয়েছে সর্বত্র৷ এমনকি এই খবর পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীর কানেও৷ তিনিও যথেষ্ট প্রশংসা করেছেন সিনুর এই প্রচেষ্টার৷

*** এক সন্তানের জন্ম দিলেন তিনজন মিলে?

বাবা ও মা মিলিয়ে মোট তিন! অবাক-কাণ্ড! এরকম কখনও শোনা গিয়েছে আগে? কিছুদিনের মধ্যে এটা সত্যি হতে চলেছে। অর্থাৎ এক সন্তানের জন্ম দিলেন তিনজন মিলে। দুই মা ও এক বাবা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী আবিস্কার।

এই পদ্ধতির বিষয়ে কিছু অজানা প্রশ্নের উত্তর…. – কেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সায় দিল এই বিশেষ পদ্ধতিতে? – এই পদ্ধতিতে একটি ভ্রূণের মধ্যে মিলে যাবে তিন বাবা-মায়ের জিনগত গুন। ভ্রূণ গঠনের একেবারে প্রথম ধাপেই এটা করা হবে। এতদিন পর্যন্ত যে পদ্ধতি নেওয়া হত তাতে শিশুর বংশগত রোগ থাকার সম্ভাবনা থাকত। পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকরী। এদিন পার্লামেন্ট সায় দিল নতুন পদ্ধতিতে কারণ এর ফলে মাইটোকন্ড্রিয়া জনিত সমস্যা থাকলেও তৃতীয় মহিলার শরীর থেকে মাইটোকন্ড্রিয়া নিজেদের গর্ভে স্থাপন করতে পারবেন। ফলে সন্তান সুস্থ থাকবে।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনে কি হয়? – মূলত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু, ব্রিটেনে একটাই পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এই পদ্ধতির নাম PNT। এই পদ্ধতিতে কোনও দম্পতির নিষিক্ত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অপর এম মহিলার নিষিক্ত ডিম্বাণুর ক্রোমোজোমে থাকা জিন প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে ডিম্বাণুর মধ্যে বাবা-মায়ের ক্রোমোজোম থাকে যাতে বাবা-মায়ের ৯৯.৯% জিন থাকে এবং আর এক মহিলা যাঁর মাইটোকন্ড্রিয়া সুস্থ রয়েছে তাঁর ০.০১% ডিএনএ থাকে।

কেন চিকিৎসকরা এই পদ্ধতিতে ভরসা রাখছেন? – মাইটোকন্ড্রিয়া জনিত রোগের কোনও যথাযথ চিকিৎসা হয় না। সাড়ে ছ’হাজার শিশুর মধ্যে একজন এই সমস্যার মারাত্মক শিকার হয়। অসুস্থ মহিলা যদি চান একজন সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে তাহলে তাঁকে খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ওই মহিলার শরীরে অন্য কারও নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু, নতুন এই পদ্ধতি চালু হলে মায়েরা তাঁদের নিজেদের ডিম্বাণু থেকে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। ফলে মায়ের সঙ্গে শিশুর জিনের মিলও থাকবে অথচ মাইটোকন্ড্রিয়া জনিত রোগও থাকবে না। ওই পরিবারের পরবর্তী সব প্রজন্মের জন্য মাইটোকন্ড্রিয়ার সমস্যা নির্মূল হয়ে যাবে।

বিরোধিতা কেন? – কেউ কেউ বিরোধিতা করছেন ধর্মীয় কারণে। আর কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক কারণে। এই পদ্ধতিটির সঙ্গে সবাই পরিচিত নয়। তাই এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনে। অনেকের ধারনা অসুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া ওই তৃতীয় মহিলার শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে। এর ফলে কোনও অসুস্থতা আসতে পারে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাই গবেষণা আরও কিছুটা না এগোলে ভরসা পাচ্ছেন না অনেকেই।

বিতর্কের শীর্ষে কারা? – অ্যাংলিকান চার্চ ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ এই পদ্ধতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছেন। বহু বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীও এর বিপক্ষে। অনেকেই চাইছেন এই এই পদ্ধতি চালু হোক। আবার অনেকেই ভরসা পাচ্ছেন না।