আজ সোমবার বিকাল ৩:২৮, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

মহেশপুরে বিজিবি’র গ্রেফতার আতংকে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত সীমান্তবর্তী মানুষ

নিউজ ডেস্ক | জাগো বার্তা .কম
আপডেট : জুন ২৯, ২০১৭ , ১:০১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খুলনা
পোস্টটি শেয়ার করুন

আজাদ বিশ্বাস,ঝিনাইদহঃ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের সীমান্তের গ্রামগুলিতে বিজিবি’র গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। বিজিবি গত ৭দিনে ১৯টি মামলা দায়ের করেছে, অর্ধশত লোকজনকে গ্রেফতার করেছে, ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত সীমান্তের বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী, বিজিবি ও থানা সূত্রে প্রকাশ, গত ২০/৬/১৭ইং তারিখে ভারতে গরু আনতে যেয়ে ২ বাংলাদেশী কিশোর বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। পরদিন ২১ শে জুন সন্ধ্যায় লাশ হস্তান্তর হয়। ২২ শে জুন থেকে ৫৮ বিজিবি সীমান্তের ৫টি ইউনিয়ন স্বরুপপুর, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ও যাদবপুর ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সীমান্তে বসবাসরত গ্রামগুলি থেকে অর্ধশত ব্যক্তিকে আটক করে ১৯টি মামলা দায়ের করেছে।

এলাকাবাসী বলছে এ সকল ব্যক্তিকে বাড়ী থেকে ধরে মাদক দিয়ে মহেশপুর থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বিজিবি জানিয়েছে ঐ সকল ব্যক্তিরা চোরাকারবারী। ঈদের ভিতর অভিযানের কারণে ঐ সকল গ্রামগুলিতে গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার গুলি ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নেপা ইউপির বাঘাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক মেন্বার ও আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম স্বপন বলেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা কেউ মাদক ব্যবসা করেনা তাদেরকে বাড়ী থেকে আটক করে মাদক দিয়ে চালান দেওয়া হয়েছে।

নেপা ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম মৃধা বলেন, তার ইউনিয়ন থেকে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ চোরা কারবারীর সাথে জড়িত না। বিজিবি তাকেও হয়রানী করেছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সাবেক এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল বলেন, সীমান্তে অঞ্চল ঘুরে তিনি যা জানতে পেরেছেন বিজিবি সাধারন মানুষজনকে হয়রানী করছে তিনি চোরা চালান বন্ধ হোক সেটি কামনা করেন কিন্তু সাধারন মানুষ যেন হয়রানী না হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ সীমান্ত অঞ্চল ঘুরে এসে এ প্রতিবেদককে জানান, চোরাচালান বন্ধ হোক সরকারও চাই আমিও চাই কিন্তু বিজিবি অনেক নিরাপরাধ মানুষকে আটক করে হয়রানী করছে, প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোয়া বাইরে রয়ে গেছে। আটক কৃতদের মধ্যে অনেক স্কুলছাত্র রয়েছে। তিনি আরো বলেন, খালিশপুরস্থ ৫৮ বিজিবি সিওকে হয়রানী না করে প্রকৃত অপরাধীদের আটক করার পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া তিনি ঢাকায় গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ৫৮ বিজিবি-র সিও লেঃ কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে তাদের বিশেষ অভিযান চলছে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা চোরাচালানের সাথে জড়িত । সীমান্তে চোরা চালান রোধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মহেশপুর থানার ওসি আহম্মেদ কবির বলেন, বিজিবি ২৮জুন পর্যন্ত ১৯টি মামলা দিয়েছে এতে বিজিবি ৪০/৪৫জন আসামী ধরে তাদের থানায় হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তাদেরকে আদালতে পাঠিয়েছে। মামলা তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।

সীমান্ত অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে অধিকাংশ পুরুষ বাড়ী ছাড়া।