নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :
কুলিয়ারচর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিখোঁজের ২৭ দিন পর চার মাস বয়সী শিশু আশরাফুলের মরদেহ নিজ বাড়ির টয়লেটের ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি বিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শিশু আশরাফুল উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের বাসিন্দা শাহিনের ছেলে। শাহিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ পাঠায়।
নিখোঁজের দিন যা ঘটেছিল:
পরিবার সাংবাদিকদের জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে ঘরের ভেতর দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশে ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। এরপর পরিবারের সদস্যরা আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
প্রশাসনের বক্তব্য:
ভৈরব সার্কেলের এএসপি মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, প্রশাসন শুরু থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ:
শিশুর দাদির অভিযোগ, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।